প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৪, ২০২৫, ৬:৩১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ৮, ২০২১, ১২:০১ অপরাহ্ণ
বাঘাইছড়িতে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে দুই বছরে আহত ৩ শতাধিক! ভ্যকসিনের দেনা ৫ লক্ষাধিক টাকা

তববাঘাইছড়ি প্রতিনিধি// রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব। এসব কুকুরের কামড়ে গত দুই বছরে ৩শর অধিক মানুষ আহত হয়েছে। সর্বশেষ গত তিন মাসে কুকুর কামড়ের শিকার হয়েছে ৫০ জনের অধিক। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথমতে কুকুরের আক্রমনের শিকার অধিকাংশ শিশুরা।
উপজেলায় ভ্যাকসিন না থাকায় কুকুরে কামড়ে আহত মানুষকে ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, বিগত দু বছরে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কুকুরের কামড়ে আহত তিন শতাধিক মানুষকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দিতে হয়েছে। এর বাইরেও অনেকে বৈদ্য কবিরাজের চিকিৎসা নিয়েছে। গত দুই বছরে যে ভ্যাকসিন দেওয়া হয় তার মূল্য ৬ লক্ষ ৮ হাজার টাকা।
বাঘাইছড়ি পৌর মেয়র জাফর আলী খান বলেন, কুকুড়ের উপদ্রব বাড়ায় কুকুর থেকে সাবধান থাকতে পৌর এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয়দের সতর্ক করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও পৌরসভা এলাকায় বেওয়ারিশ প্রায় দুইশত কুকুরকে ভ্যাকসিন দিয়ে রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমাদের এলাকায় যে হারে কুকুরে উপদ্রব বেড়েছে ভ্যাকসিন মজুদ রাখা জরুরী। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে ভ্যাকসিন মজুদ নেই। আর এসব কুকুর দিনের বেলায় লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও রাতে সংঘবদ্ধ ভাবে মানুষের গবাদিপশুর খামারে হামরা করে।
বাঘাইছড়ি প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রনয় খীসা চাকমা বলেন, বছরের এ সময় সাধারণত আগষ্ট সেপ্টেম্বর মাসে কুকুরের উপদ্রপ বেশি থাকে। এসব কুকুর অল্পতেই মানুষকে আক্রমন করে। গত দুই বছরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে একশর বেশী গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগী মারা গেছে শুধু কুকুরের কামড়ে।
উপজেলা পরিষদে ভ্যাক্সিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মা ফার্মেসির সুজিৎ চক্রবর্তী বলেন গত দুই বছরে ৩ শত মানুষকে ৬ লক্ষ ৮ হাজার টাকার ভ্যাক্সিন দিয়েছি উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের সুপারিশ পত্র অনুযায়ী ৩ থেকে ৫ টি করে ভ্যাক্সিন দেয়া হয়, দুই বছরে ভ্যাক্সিনের জন্য টাকা পেয়েছি মাত্র ২ লাখ টাকা। বর্তমান পরিষদের কাছে আরো ৪ লক্ষ ৮ হাজার টাকা, এর আগের পরিষদের চেয়ারম্যান বড় ঋষি চাকমার কাছে ১ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকাসহ ৫ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকা বকেয়া পাব।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা বলেন, কুকুর কামড়ে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মধ্যে ব্যাক্তিগত অনেকে ভ্যাক্সিন নিয়েছেন। উপজেলায় বর্তমানে ভ্যাকসিন সংকট থাকায় শুধুমাত্র গরীব ও অসহায় মানুষদের ভ্যাক্সিন দেয়া হচ্ছে।
সুদর্শন বলেন সচেতনতার অভাবে অনেকে বৈদ্য কবিরাজের কাছে জলাতঙ্ক রোধে ঔষধ খাচ্ছে। এটা না করতে আমরা বার বার সচেতন করছি। এখন আক্রান্তরা আমাদের কাছে আসতেছে। কিন্তু আমরা ভ্যাকসিন দিতে পারছি না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইফতেখার আহম্মেদ বলেন, ভ্যাকসিনের বিষয়টি আমাদের হাতে নেই। আমাদের কাছে ভ্যাকসিনও নেই।যারা কুকুড়ের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে আমাদের কাছে আসে তাদের খাগড়াছড়ি জেলা শহরে পাঠিয়ে দিই। সেখানে গিয়ে ভ্যাকসিন নিতে হয়। এ ভ্যাকসিন এটা সাধারণত ১ম শ্রেণীর পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশনে দেওয়া হয়। উপজেলা পর্যায়ে এখনো দেওয়া হয়না। কুকুড়ের কামড় খেলে আমাদের কাছে মানুষ আছে না। এরা সম্ভবত চেয়ারম্যানের কাছে যায়। সরকার এটা আমাদের হাতে দিলে তখন মানুষকে সেবা দিতে পারব। এদিকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম বলেন গত দুই বছরে আমি নিজে দুইশতাধিক মানুষকে ভ্যাকসিনের জন্য সুপারিশ করেছি, প্রতিনিয়ত মানুষ ভ্যাকসিনের জন্য আসে আমাদেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মোঃ জুয়েল
Copyright © 2025 পার্বত্যসময়. All rights reserved.