ঢাকারবিবার , ৩০ মে ২০২১

পার্বত্যঅঞ্চলের নেক্কারজনক “ভুষনছড়া গণহত্যা”র ৩৭তম দিবস পালিত

প্রতিবেদক
Admin
মে ৩০, ২০২১ ২:২৮ অপরাহ্ণ

বরকল প্রতিনিধি:: আজ ৩০ মে, ভূষণছড়া গণহত্যা দিবস।৩৭ বছর পরেও দিনটি ভুষনছড়াবাসীর জন্য অতঙ্করে একটি স্মৃতি।
পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত হত্যাকান্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ এবং ভয়াবহ হত্যাকান্ডটি হচ্ছে ভূষণছড়া হত্যাকান্ড। আজ থেকে ৩৭ বছর আগে রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ও তার পাশ্ববর্তী এলাকার বাঙ্গালীরা এই নির্মম গণহত্যার শিকার।

দিনটি স্মরন করতে গিয়ে ভুষনছড়াতে আজ ইউপি চেয়ারম্যান মো মামুনর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে পালিত হয় ৩৭তম ভুষণছড়া গণহত্যা দিবস, এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো জুয়েল রানা,বরকল থানা অফিসার ইনচার্জ কাজী জসিম উদ্দিন,পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক মো আলমগীর কবির, এবং রাঙ্গামাটি জেলা নাগরিক পরিষদের সাধারন সম্পাদক মো সোলাইমান,মোর্শেদা বেগম,ছিদ্দিক ব্যাপারী,ছবুর তালুকদার,আবু সাইদ,আব্দুল্লাহ আল হেলাল সহ আরো অনেকে।

এসময় নিহতে আত্নীয়রা বর্বরোচিত সেই হত্যার বিচার দাবী করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

উল্লেখ্য পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস ঘাটলেও এত বড় ধ্বংস যজ্ঞের আর কোন নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমনকি ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানী পাষন্ডরাও এখানে এমন জঘন্যতম ঘটনার জন্ম দেয়নি। যে ঘটনার মাধ্যমে মাত্র কয়েক ঘন্টা সময়ে হত্যা করা হয়েছে চার শতাধিক মানুষ । এবং আহত করা হয়েছে আরও সহস্রাধিক মানুষ। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে একটি জনপদ।

১৯৮৪ সালের ৩০ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা ৩০মিনিট পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে কলঙ্ক জনক অধ্যায় ভূষণছড়া গণহত্যা।

ঘটনার ভয়াবহতা আর সরকারী নিস্ক্রিয়তায় ভীত সস্ত্রস্ত অনেক সেটালারই স্থান ত্যাগ করে পালালো। পলাতকদের ঠেকাতে পথে ঘাটে, লঞ্চে, গাড়িতে, নৌকা ও সাম্পানে চললো তল্লাশী ও আটকের প্রক্রিয়া। তবু নিহত আর পলাতকরা মিলে সংখ্যার প্রায় অর্ধেকই হলো ঐ জনপদ থেকে লাপাত্তা। শুরু হলো জীবিতদের মাধ্যমে লাশ টানা ও কবরস্থ করার তোড়জোড়। খাবার নেই, মাথা গোঁজার ঠাই নেই্ চারিদিকে কেবল পঁচা লাশের দুর্গন্ধ, পালাবারও পথ নেই। নিরূপায় জীবিতরা, লাশ গোজানো ছাড়া আর কোন কাজ নেই । দয়া পরবশ কর্তৃপক্ষ, কিছু আর্থিক সহযোগীতায় এগিয়ে এলেন । এটাকে দয়া বলা ছাড়া উপায় কি? পেটে খেলে পিটে সয়, এ যেন তাই।’’

ভূষণছড়া এবং প্রিত্তিছড়ায় সেদিন কোন মানুষকে জীবিত পাওয়া যায়নি। জীবিত পাওয়া যায়নি কোন পোষা প্রাণীকেও। সেদিনের কিছু প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় অগ্নি দগ্ধ বিরান ভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে একটি মাত্র কুকুর। আর ছবির ক্যাপশন এ লেখা ছিলো Bhushanchara: Only the Dog was left Alive।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত