০২ ডিসেম্বর শুক্রবার ২৫তম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর দিবসটি বাঘাইহাট জোন এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে পাহাড়ি বাঙালি ভেদাভেদ ভূলে একত্রিত হয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে আয়োজিত ৮কিঃমিঃ মিনি ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগীতা, হেডম্যান/কার্বারী ও আইন শৃঙ্খলা সমন্বয় সভা, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ, বিকালে পাহাড়ি বাঙালি সম্প্রীতি ফুটবল প্রীতি ম্যাচ এবং সাজেক এলাকাবাসীর উদ্যোগে সন্ধায় বাঘাইহাট বাজার সংলগ্ন বিএফআইডিসি মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্প্রীতি কনসার্ট এর আয়োজন করা হয়।
শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেনঃ লেঃ কর্ণেল মুনতাসির রহমান চৌধুরী, পিএসসি, ৬ইষ্ট বেঙ্গল, জোন কমান্ডার বাঘাইহাট জোন।
*মিনি ম্যারাথনঃ* সকালে বাঘাইহাট জোন কর্তৃক আয়োজিত ২৫তম শান্তি চুক্তি দিবস উপলক্ষে ৮ (আট) কিলোমিটার মিনি ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগীতায় পাহাড়ি বাঙালি সকল বয়সের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহনের মাধ্যমে দৌড় প্রতিযোগীতা শুরু হয় । বাঘাইহাট জোনের মাঠ থেকে গঙ্গারাম বাজার গিয়ে টার্নিং করে বাঘাইহাট জোনের মাঠে প্রতিযোগীরা দৌড় শেষ করেন।
পরবর্তীতে দৌড় প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ কারীদের মধ্যে প্রথম ২৬ জনকে জোন কমান্ডার মহোদয় পুরস্কার বিতরন করেন ।
মিনি ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগীতায় প্রথম পুরস্কার -পাঁচ হাজার টাকার প্রাইজ বন্ড, মেডেল ও একটি ক্রেস্ট,
দ্বিতীয় পুরষ্কার তিন হাজার টাকার প্রাইজ বন্ড, মেডেল ও একটি ক্রেস্ট,
তৃতীয় পুরস্কার দুই হাজার টাকার প্রাইজ বন্ড, মেডেল ও একটি ক্রেস্ট দেয়া হয়।চতুর্থ থেকে এগারো তম পুরস্কার এক হাজার টাকার প্রাইজ বন্ড এবং মেডেল, বারো থেকে ছাব্বিশ তম পর্যন্ত পাঁচ শত টাকার প্রাইজ বন্ড এবং মেডেল প্রদান করা হয়।
ম্যারথন সম্পূর্ণ শেষ করা ২৬জন ব্যক্তিদের ২৫তম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর দিবসের বাঘাইহাট জোনের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
পুরস্কার বিতরণ শেষে জোন কমান্ডার মহোদয় সকল প্রতিযোগীদের উদ্দেশ্য বলেন, আমাদের এই পাহাড়ে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়ার রয়েছে যারা বহির বিশ্বে আমাদের দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে। তাই এসব প্রতিযোগীতার মাধ্যমে আমাদের প্রতিভাবান তরুণ উদীয়মান খেলোয়াড়দের অনুপ্রানিত করতে হবে।
হেডম্যান/কার্বারী ও আইন শৃঙ্খলার সমন্বয় সভায়* জোন কমান্ডার মহোদয়- হেডম্যান, কারবারি এবং এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করেন এবং এলাকার সার্বিক শান্তি শৃঙ্খলার খোঁজ খবর নেন।
হেডম্যান, কারবারি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ থেকে তাদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যা সম্পর্কে জানতে চান।তাদের মতামতের বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শান্তি সম্প্রীতি এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাঘাইহাট জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি উন্নয়ন ঘটছে । উন্নয়ন মুলক কাজের জন্য সেনাবাহিনী সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে।
জোন কমান্ডার চেয়ারম্যান, মেম্বারদের তাদের নিজ নিজ এলাকায় সরজমিনে গিয়ে সমস্যা গুলো পর্যবেক্ষন করে জোনকে অবগত করলে যথাযথ কার্যকরি ব্যাবস্থা নিবে বলে আশ্বাস দেন। তিনি আরও বলেন-আপনাদের উপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। আপনারা সঠিক তথ্য দিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করলে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যথাসময়ে ব্যবস্থা নিতে সহজ হয়।
জোন এলাকায় বসবাসরত সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তারা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে সেই দায়িত্ব নিরাপত্তা বাহিনীর ।
আর যারা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়ে সহায়তা করছে বা করবে তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে ও থাকবে বলে জানায়।
*বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ* বাঘাইহাট জোন কর্তৃক আয়োজিত হতদরিদ্র ও দুস্থ পাহাড়ী বাঙ্গালী ২৭০ জন রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ করেন বাঘাইহাট জোনের আরএমও ক্যাপ্টেন জি,এম, ফয়জুল হক,এএমসি।
*সম্প্রীতি ফুটবল প্রীতি ম্যাচ* একই দিনে বিকালে বাঘাইহাট জোন সদর ফুটবল মাঠে জাঁক যমক করে একটি সম্প্রীতি ফুটবল প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করে। এতে অংশ গ্রহন করেন বাঘাইহাট জোনের আর্মি সেনাসদস্য বনাম পাহাড়ি বাঙালি একাদশের সদস্যগন। পাহাড়ি বাঙালি খেলা দেখতে জনসাধারণের ঢলপড়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে উভয় দলের মধ্যে। তবে ২-০ গোলে জয় লাভ করে সম্প্রীতি ফুটবল প্রীতি ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন হয় বাঘাইহাট জোন ৬ইস্ট বেঙ্গল মাইটি সিক্সার্স একাদশ এবং রানারআপ হয় পাহাড়ি বাঙালি একাদশ দল।
খেলা শেষে জোন কমান্ডার মহোদয় চ্যাম্পিয়ন দলের সকল খেলোয়ারকে মেডেল ও চেম্পিয়ন ক্রেস্ট দ্বারা পুরস্কৃত করেন এবং রানারআপ দলের সকল খেলোয়ারকে মেডেল এবং রানার আপ ক্রেস্ট দ্বারা পুরস্কৃত করেন।
*সম্প্রীতি কনসার্ট* শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তী উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সাজেক এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাঘাইহাট বাজার সংলগ্ন বিএফআইডিসি মাঠে সম্প্রীতি কনসার্ট আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শিল্পী গোষ্ঠি নৃত্য পরিবেশন করে এবং চট্টগ্রাম ও বাঘাইছড়ি হতে আগত শিল্পীরা তাদের গানের মুগ্ধতার মাধ্যমে কনসার্ট আলোকিত করে তোলেন। সাজেক এলাকার সকল পাহাড়ী বাঙ্গালী স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহন করে আনন্দ উপভোগ করেন। এতে পাহাড়ী বাঙ্গালীদের মধ্যে আরও সম্পৃতি বন্ধনের সৃস্টি হয়।নাম বলতে অনিচ্ছুক – এক পাহাড়ী ব্যক্তি বলেন- আমরা পাহাড়ী বাঙ্গালী সকল ভেদাভেদ উপেক্ষা করে আজকের দিনের মত সকলে মিলে মিশে বসবাস করতে চাই এবং আজকের দিনের মত মাঝে মধ্যে এরকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে আমরা সকলে আনন্দ উপভোগ করতে পারব।